Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চেয়ারম্যান

মোঃ সেলিম রেজা

 

সচিব জনাব মোঃ সেলিম রেজা বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৭ম ব্যাচের কর্মকর্তা । জনাব মোঃ সেলিম রেজা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ হতে এলএলবি ( অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রী অর্জন করেন এবং সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৫/০২/১৯৮৮ খ্রিঃ তারিখে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনায় যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। 

 

দীর্ঘ চাকরিকালে জনাব রেজা দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষাসহ পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি “গভর্ণেস স্টাডিস” বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। University of Wolverhampton, England থেকে  Development Administration and Management এর উপর উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেন। Sussex University, England থেকে Migration Under Temporary Movement of Natural Person বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া University of Potsdam, Germany তে Governance, Project Management, Monitoring System and Negotiation এর উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ এবং Asian Institute of Technology, Thailand থেকে Public Administration Reform, Performance Management and Service Delivery বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়াও দেশে বিপিএটিসি, প্রশাসন একাডেমী, মিলিটারী একাডেমীসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হতে পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। 

 

জনাব মোঃ সেলিম রেজা তাঁর পেশাগত জীবনে এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) হিসেবে রংপুর জেলা প্রশাসনে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিনিয়র অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম সচিব (শ্রম) হিসেবে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং অভিবাসীদের কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে ব্যাপক সম্পৃক্ততা লাভ করেন ও নিরাপদ অভিবাসন  নিশ্চিতকল্পে অবদান রাখেন।  দেশে ফিরে আসার পর তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান  মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এবং ২০০৯ সালে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর পরিচালক পদে যোগদান করেন। অতঃপর তিনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি পান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে কাজ করেন। জনাব রেজা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) যুগ্ম সচিব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য উইংএ এবং অতিরিক্ত সচিব পদে প্রশাসন উইং এ কাজ করেন। তার সার্ভিসের মেয়াদে তিনি বহির্বিশ্বে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে এবং দক্ষতার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর  বিষয়ে অবদান রাখেন। তিনি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়ক মূল্যায়ন, সংগঠন, সমঝোতা ও বরাদ্দের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক চুক্তি, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জয়েন্ট কমিশন এবং জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 

 

তাঁর কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের সময় তিনি তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্বে অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উন্নয়নে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি বাংলাদেশি জনশক্তি প্রেরণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরে গুরুত্বপূর্ণ পদে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে কৌশলগত ঐক্য গড়ে তুলতে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তাঁর প্রধান উদ্যোগ ছিল অভিবাসীদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ প্রেক্ষিতে তিনি অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষা বিষয়ে নীতি, পরিকল্পনা ও দক্ষতার উপর পেশাদারিত্ব অজর্ন করেন। সুশৃঙ্খল, মানবিক, নিয়মিত ও নৈতিক অভিবাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর অবদান প্রশংসিত হয়েছে। 
 

তিনি পেশাগত অভিজ্ঞতার বেশীরভাগ সময় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আর্ন্তজাতিক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের সাথে কাজ করেছেন। জনাব মো: সেলিম রেজা-এর উদ্যোগে গৃহীত সেবা বিকেন্দ্রীকরণ এবং ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে অভিবাসী কর্মীদের প্রতি সেবা প্রদানের জন্য অভিবাসী কর্মীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং এ সকল উদ্যোগ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা পরিমন্ডলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হযেছে। এর মধ্যে অভিবাসী কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিসা পরীক্ষা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা এবং স্মার্ট কার্ড প্রদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর বলিষ্ঠ উদ্যোগে জাতীয় উন্নয়ন মেলা, উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল মেলায় বিএমইটির জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে পুরষ্কার অর্জন করে। তিনি অভিবাসী কর্মীদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর অবদানের জন্য ‘সোনার মানুষ’ পুরষ্কার লাভ করেন। 

 

অভিবাসন এবং দক্ষতা প্রশিক্ষণ সেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানতম উদ্যোগসমূহের মধ্যে রয়েছে: ১) গৃহকর্মী হিসেবে মহিলাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ বিভিন্ন জেলায় বিকেন্দ্রীকরণ, ২) অনলাইন পরীক্ষা এবং সনদায়ন, ৩) ই-লার্নিং প্লাটফর্ম চালু করা, ৪) প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে রিয়েল টাইম মনিটরিং, ৫) পিপিপি-ভিত্তিক বেসিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে স্থানীয় এবং বিদেশী নিয়োগকতার্ বিশেষ করে সৌদিআরব ও হংকং-এর সাথে যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৬) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষকদের জন্য দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং একটি প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, ৭) উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন বিশেষত: স্টেপ, সেইপ, বি-সেপ ও স্কিলস২১ প্রকল্পের সাথে ওতপ্রোতভাবে কাজ করা এবং ৮) সিটি এন্ড গিল্ডস এর মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক সনদায়ন প্রদান। 
 

তিনি সমসাময়িক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানেরমাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখছেন।তিনি উৎসাহ প্রদান ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে প্রত্যাশিত প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশী সচেষ্ট। তিনি বিভিন্ন আইন ও সরকারী নীতিমালা প্রণয়নে দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং প্রেরণকারী ও গন্তব্য উভয় দেশে তাদের অধিকার ও সুবিধার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। 
 

তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল নেতা ও সদস্য হিসেবে সেমিনারসমূহে দ্বিপক্ষীয় সভা, যৌথ কমিটির সভা, স্টাডি ট্যুর, শ্রম বাজার অনুসন্ধানের জন্য বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেন, যথা:- কুয়েত,সৌদিআরব, কাতার,ওমান, বাহরাইন, ইউএই, মিসর, তিউনিসিয়া,কঙ্গো,ভারত, মালযেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ব্রুনাই, হংকং, ম্যাকাউ, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ইতালি, ভ্যাটিকান সিটি, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, তুরস্ক, জাপান, সিসেলস, জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র। তিনি পাবনা জেলায় ১৯৬১ সালে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিবাহিত ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। জ্যেষ্ঠপুত্র বিমানে পাইলট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছেন এবং কনিষ্ঠপুত্র এ-লেভেলে অধ্যয়ন করছে। তাঁর  স্ত্রী মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষকের পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।

 

Share with :

Facebook Facebook